প্রেস রিলিজঃ
জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের সরকারি বাসভবনে ‘জুলাই এখনো শেষ হয়নি’ শীর্ষক প্রদর্শনীতে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদী শাসনের প্রবর্তক ও ভারতের তাবেদার শেখ মুজিবুর রহমানকে মহিমান্বিত ও নরমালাইজ করার বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
শনিবার এক বিবৃতিতে দলের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বলেছেন, জামায়াত আমীরের সরকারি বাড়িতে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে বিকৃত ও আওয়ামীকরণ করা হয়েছে।
তার অভিযোগ, এর মাধ্যমে জামায়াত অশুভ রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এখনকার ফ্যাসিবাদ পূজা ধারণা দিচ্ছে জামায়াত নব্বই দশকের মতই আওয়ামী লীগের সঙ্গে রাজনৈতিক জোট করতে যাচ্ছে।
বিবৃতিতে তিনি বলেন, জুলাই গণহত্যা মামলার ফাঁসির আসামী পলাতক শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের ঘোষণা দেওয়ার পর জামায়াত আমীর মধ্য নভেম্বরে ঢাকায় সরকার বিরোধী মহাসমাবেশের ডাক দিয়েছেন। এরমধ্যে স্পষ্ট, হাসিনার আগমনের আগেই জামায়াত দেশ অস্থিতিশীল করে তুলবে। এটি যে একটি সমন্বিত ষড়যন্ত্রের অংশ, তা জামায়াত আমীরের জুলাই প্রদর্শনীতে প্রমাণিত। তিনি সাতই মার্চের ভাষণ প্রদর্শন করে আওয়ামী লীগকে নরমালাইজ করা ও দলটির সঙ্গে মিলে বর্তমান সরকার উৎখাত করার অশুভ বার্তা দিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, জামায়াতের প্রদর্শনীতে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ মেজর জিয়াউর রহমানের ঘোষণার মাধ্যমে সূচিত মুক্তিযুদ্ধের কোনো তথ্য ও চিত্র তুলে ধরা হয়নি। বরং ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ শেখ মুজিব পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জন্য যে ভাষণ দিয়েছে তার ছবি বড় করে তুলে ধরেছে। এটি শেখ মুজিবকে আইকন বানাতে মুক্তিযুদ্ধের আওয়ামী ন্যারেটিভ ছাড়া আর কিছুই নয়। প্রকৃত ঘটনা হলো শেখ মুজিব সাত মার্চ লম্বা ভাষণ দিলেও ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করেছিল। মুজিবকে পাকিস্তানি সেনারা ১৯৭১ সালের এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত শাহবাগের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আরাম আয়েশে রেখেছে। মুক্তিযুদ্ধে তার কোনো প্রত্যক্ষ অবদান ছিল না। মূলতঃ ২৬ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের প্রথম রাষ্ট্রপতি হিসেবে মেজর জিয়াউর রহমান স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। তার এ ঘোষণার কারণে ২৬ মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস। আর সকল সরকারি দলিলে মুক্তিযুদ্ধের ব্যাপ্তি হলো ১৯৭১সালের ২৬ মার্চ থেকে ১৬ ডিসেম্বর। ১৯৭১সালের সাত মার্চ মুক্তিযুদ্ধের অন্তর্ভুক্ত নয়।
বিবৃতিতে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক বলেন, জামায়াত ইনিয়ে বিনিয়ে শেখ মুজিবকে নরমালাইজ করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত। কিন্তু মুজিব ছিল বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় গণবিরোধী ফ্যাসিস্ট। জনগণ ও সেনাবাহিনী নয় মাস যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেও মুজিব বিনা ভোটে ক্ষমতা দখল করে ভারত থেকে আমদানি করা ও পাকিস্তানের জনপ্রতিনিধিদের দ্বারা পাস করা সংবিধান চাপিয়ে দিয়েছিল। তার শাসনামলে হাজার হাজার বিরোধী দলীয় নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। ভারত থেকে মুহাজির মুসলিমদের কলকারখানা ও বাসাবাড়ি দখল করা হয়েছে। মহান বিপ্লবী নেতা শহীদ সিরাজ সিকদারকে হত্যা করে মুজিব নিজে সংসদে দম্ভ প্রকাশ করেছিল।
তিনি আরও বলেন, জামায়াত মুক্তিযুদ্ধকালীন হীনমন্যতা আড়াল করতে বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদের আইকন শেখ মুজিবকে স্বাধীনতার স্থপতি বলে। অথচ মুজিবই বাংলাদেশকে ভারতের করদ রাজ্য বানিয়েছিল। তার সময়ে জনগণের স্বাধীনতা হরণ করতে আদালতে রিট করার ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে, সংবাদপত্র এবং রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একদলীয় বাকশাল গঠন করে ফ্যাসিবাদী শাসন চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই মুজিবকে জামায়াত স্বাধীনতার স্থপতি আখ্যা দিয়ে জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে।
খোমেনী ইহসান বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের বিপ্লবে শেখ মুজিবের পতন ও তার বাকশালী শাসনের অবসান হয়েছে। তবে মুক্তিযুদ্ধের নাম করে তার প্রকৃত অপকীর্তি গোপন করে তাকে জাতীয় আইকনে পরিণত করা হয়েছে। তার ফ্যাসিবাদী রাজনীতির ধারকবাহক আওয়ামী লীগকে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তার উত্তরাধিকার শেখ হাসিনাকে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি ও ভারতপন্থী বাম দলগুলো বারবার রাজনৈতিক সঙ্গ দিয়েছে। এর সুযোগে হাসিনা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতাসীন হয়ে সারাদেশে গডফাদার গড়ে তুলেছে। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর প্রকাশ্যে রাজপথে হত্যাযজ্ঞ চালিয়েছে। ২০০৯-২০২৪ পর্যন্ত পিলখানায় ৫৭ জন সেনাকর্মকর্তা হত্যাযজ্ঞ, শাপলা চত্বর গণহত্যা, বিএনপি-জামায়াত ক্র্যাকডাউন ও হত্যাযজ্ঞ, সর্বশেষ জুলাই গণহত্যা এবং ব্যাপক সংখ্যক গুম, খুন, অপহরণ করেছে।
বিবৃতিতে জামায়াতকে জুলাই বিপ্লবকে ঠিকমতো অনুধাবন করার আহ্বান জানান জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক। তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের কারণে শেখ মুজিবের পরিবারের সদস্য ও আত্মীয়-স্বজন বাংলাদেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। শেখ মুজিবের দল আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। শেখ মুজিবের মূর্তি ও বাড়ি ভাঙা হয়েছে। শেখ মুজিবের পতন দিবসের আরোপিত শোক দিবস বাতিল করা হয়েছে। এরপরেও জামায়াত মুজিবের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়ে নির্বুদ্ধিতা ও অতি লোভের পরিচয় দিয়েছে। এরমধ্যে সবচেয়ে ঘৃণ্য কাজ হলো, জামায়াত জুলাই বিপ্লবকেই মুজিব পূজার জন্য বেছে নিয়েছে। এটি জুলাই বিপ্লবী শহীদ ও সংগ্রামীদের সঙ্গে চরম প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়।



