সংবাদ বিজ্ঞপ্তিঃ হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে বহিষ্কারের দাবিতে ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাও করতে যাওয়ার পথে পুলিশের বাধার মুখে পড়ার পর ভারত খেদাও আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের নেতা-কর্মীরা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) বেলা পৌনে ১২টার দিকে মিছিল নিয়ে ভারতীয় হাইকমিশনে যাওয়ার পথে রাজধানীর শাহজাদপুরের বাঁশতলায় প্রগতি সরণীতে ব্যারিকেড দিয়ে তাদের থামিয়ে দেওয়া হয়।
এসময় দলটির আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান বলেন, আমরা সীমান্তে বাংলাদেশীদের হত্যা, তিস্তাসহ অভিন্ন নদীর পানি প্রত্যাহার, অসম ও অধীনতামূলক চুক্তির মাধ্যমে শোষণ এবং জুলাই গণহত্যার দায়ে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ না করার প্রতিবাদে হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে বহিষ্কারের দাবি জানাতে ভারতীয় হাইকমিশন ঘেরাও করতে এসেছিলাম। কিন্তু পুলিশ আমাদেরকে হাইকমিশনের সামনে যেতে দেয়নি। এ অবস্থায় আমরা বাধ্য হয়ে আগামী ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত আল্টিমেটাম ঘোষণা করছি। এরমধ্যে ভারতীয় হাইকমিশনার দিনেশ ত্রিবেদীকে বহিষ্কার, শেখ হাসিনাকে ফেরত প্রদান, সীমান্ত হত্যা বন্ধ, অসম চুক্তি বাতিল ও পানির ন্যায্য হিস্যার দাবি পূরণ করতে হবে। তা না হলে ১৭ ডিসেম্বর থেকে ভারত খেদাও আন্দোলন শুরু হবে। সারা দেশে ভারতীয় পণ্য বর্জন করা হবে।
তিনি বলেন, আমরা এমনি এমনি ভারতের বিরোধিতা করছি না। ভারত বাংলাদেশের ওপর হেন কোনো আগ্রাসন নাই যে চাপিয়ে দিচ্ছে না। সীমান্ত হত্যা ও নদীর পানি প্রত্যাহারের পাশাপাশি আধিপত্যবাদ বিরোধীদের নিয়মিত হত্যা করে আসছে। আমাদের দেশপ্রেমিকদের খুনিদের আশ্রয় কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে ভারত। আমাদের স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমানের খুনী মেজর মোজাফফরও দীর্ঘ দিন ভারতে ছিল। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর লাশের ওপর নাচানাচি করা বাপ্যাদিত্য বসু ভারতে আছে। শহীদ ওসমান হাদীর খুনীরা ভারতে আছে। সবচেয়ে জঘন্য ব্যাপার হলো জুলাই গণহত্যাকারী শেখ হাসিনাও ভারতেই আছেন। তিনি সেখানে বসে হুমকি দিচ্ছেন আর দেশে জুলাই যোদ্ধাদের লাশ পড়ছে। গতকাল বুধবারও হাসিনার ৫ আগস্টের পালানোর ভিডিও ধারণকারী বিমানবাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা কে এম তাহসিফ সাউরির লাশ তুরাগ নদীতে পাওয়া গেছে। আরও অনেককে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে।
ভিডিওঃ ঘেরাওকালে বিপ্লবী পরিষদের নেতাকর্মীদের সাথে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি।
তিনি আরও বলেন, আমরা সবাই আশা করেছিলাম ৫ আগস্টের পর ভারতের আচরণের পরিবর্তন হবে। কিন্তু ভারত এখনো বাংলাদেশের জনগণের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেনি। জুলাই গণহত্যায় শহীদদের কবরে গিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেনি। বরং ভারতের সরকারি দল বিজেপির নেতা দিনেশ ত্রিবেদী হাইকমিশনার পরিচয়ে বাংলাদেশে এসে ভাইসরয়ের মতে আচরণ করছেন। তিনি সারা দিন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তরে টোটো করে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর মুচকি হাসছেন।
খোমেনী ইহসান বলেন, সামগ্রিক পরিস্থিতি প্রমাণ করে জুলাই বিপ্লবের পরে বাংলাদেশে ভারতীয় আধিপত্যবাদের অবসান হবে। কিন্তু পরিস্থিতির উল্টা অবনতি হয়েছে। বিএনপি সরকার কৌশলে ভারতের তাবেদারিতে লিপ্ত রয়েছে। তারা জাপানের মাধ্যমে মাতারবাড়ি গভীর সমুদ্র বন্দর ব্যবহার করে ভারতকে ট্রানজিট দিচ্ছে। জাইকার মাধ্যমে মেট্রোরেলের খরচ দ্বিগুণ বাড়িয়ে ভারতীয় কোম্পানিকে কাজ দেওয়া হচ্ছে। জাপান বিগ-বি পরিকল্পনার নামে চীন বিরোধী লড়াইয়ে ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশকেও জড়িয়ে ফেলছে। এ অবস্থায় আমাদের সামনে স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় লড়াই গড়ে তোলার বিকল্প নাই।
তিনি বলেন, আমাদের বার্তা পরিষ্কার। বাংলাদেশে ভারতকে নতুন করে আধিপত্য বিস্তার করতে দেওয়া হবে না। আন্দোলনের মাধ্যমে দিনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশ ছাড়া করা হবে। জাপানকেও মাতারবাড়ি বন্দর ব্যবহার করে ভারতকে ট্রানজিট প্রদান করতে দেওয়া হবে না। আমাদের সরকারকে বলব বাংলাদেশকে ভারতের করদরাজ্য ও পরাশক্তির খেলার মাঠ বানানো বন্ধ করুন।
তিনি আরও বলেন, আমাদের প্রত্যাশা অর্থনৈতিক ও সামরিক সঙ্কট উত্তরণে বিপুল বিনিয়োগ ও অনুদান প্রদানের মাধ্যমে বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় চীন ও মুসলিম বিশ্ব এগিয়ে আসবে। তারা সহযোগিতা না করলে চীন ও মুসলিম বিশ্ব বিরোধী অর্থনৈতিক ও সামরিক দ্বন্দ্বে বাংলাদেশকে খেলার মাঠে পরিণত করবে ভারত ও জাপান।
ঘেরাও কর্মসূচি শুরুর আগে সকাল থেকে শাহজাদপুর বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন কনফিডেন্স সেন্টারের সামনে জড়ো হতে থাকেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের নেতা-কর্মীরা। পরে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা একটি মিছিল নিয়ে গুলশানে ভারতীয় হাইকমিশনের দিকে এগোতে চাইলে নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরা সড়কে কাটাতারের ব্যারিকেড দিয়ে তাদের পথ রোধ করেন।
এ সময় প্রধান সড়কে অবস্থান নিয় তারা ‘ভারতের আধিপত্য, রুখে দাও জনগণ’, ‘ফেলানীর বাংলায় ত্রিবেদীর ঠাঁই নাই’, ‘ত্রিবেদীকে বহিষ্কার করতে হবে’, ‘ঘেরাও ঘেরাও হবে, হাইকমিশন ঘেরাও হবে’ এবং ‘দিল্লি না ঢাকা, ঢাকা ঢাকা’সহ বিভিন্ন ভারতবিরোধী ও প্রতিবাদী স্লোগান দিতে থাকেন।
এক পর্যায়ে তারা ব্যারিকেড সরিয়ে হাইকমিশনে যাওয়ার সংযোগ সড়ক বাঁশতলার দিকে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তবে পুলিশের বাধার মুখে তারা আর এগোতে পারেনি। এসময় নেতা-কর্মীরা সড়কের এক পাশ দিয়ে যান চলাচলের সুযোগ রেখে সমাবেশ শুরু করেন।
কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. ফরিদ উদ্দিন, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ, সহকারী সদস্য সচিব আবদুস সালাম ও গালীব ইহসান, কেন্দ্রীয় সদস্য সাকিব সামিন, সাইদুল ইসলাম ও জয়নুল আবেদিন, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ, সহকারী সদস্য সচিব আরিফুল ইসলাম প্রমুখ।


