ভারতীয়রা অনেক সময় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোন একটা কারণে ভুলে যায় যে ক্রেতার সম্মান ভগবানের সম্মানের সমান - সাফকাত রাব্বি অনিক
সাফকাত রাব্বি অনিক একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংকার, বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক ও জিও-পলিটিক্যাল কমেন্টটর।তিনি তুলে ধরেছেন বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার অর্থনৈতিক লেনদেনের একটি চাঞ্চল্যকর চিত্র!
ভারতের ম্যাপের বেশির ভাগ ধনী , সম্পৃদ্ধ রাজ্যগুলো ম্যাপের পশ্চিম কিংবা দক্ষিণ দিকে, বাংলাদেশ থেকে বহু দূরে। এই ম্যাপের গভীর সবুজ রং গুলো বড়লোক রাজ্য , হালকা গুলো গরিব । বাংলাদেশ এই ম্যাপে উহ্য আছে। বাংলাদেশের আসে পাশের রাজ্য গুলো সব রেড বা লাল , মানে গরিব। বাংলাদেশের উহ্য জায়গাটি রং করতে হলে খুবই গাড় সবুজ রং ব্যাবহার করতে হবে।
ভারতের ম্যাপের পূর্ব দিকে অর্থনৈতিক ভাবে বাংলাদেশ একটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসা বাণিজ্যের কেন্দ্র বিন্দু , ভারতের পূর্বাঞ্চলের দেশ গুলোর জন্যে।
কথার খাতিরে যদি ধরে নেন যে বাংলাদেশ আবার ১৯৪৭ এর দেশ ভাগের আগের অবস্থায় চলে যাবে , তাহলে বাংলাদেশ এর অর্থনৈতিক অবস্থান হতো ব্রিটিশ-ভারতের সবচাইতে ধনী রাজ্য মহারাষ্ট্রের ঠিক পরে।
মহারাষ্ট্রের জিডিপি ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মতো , যা বাংলাদেশের জিডিপির চাইতে একটু বেশি। পশ্চিম বাংলার জিডিপি আবার বাংলাদেশের অর্ধেক। কমেন্টে একটা টেবিল দিয়েছি , দেখে নিয়েন। বাংলাদেশের জিডিপি ৪৭০ বিলিয়ন ডলারের মতো।
মানে আজকে যদি ব্রিটিশ - ইন্ডিয়া টিকে থাকতো , তাহলে তার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ধনী রাজ্য হতো বাংলাদেশ, ১৯৭১ পরবর্তী ম্যাপকে গণনায় ধরলে । যদিও ভারতের অঙ্গ হিসেবে থাকলে বাংলাদেশ আজকের অবস্থানে আসতে পারত না, তবে সেইটা এই লেখার মূল উদ্দেশ্য না।
আর যদি দুই বাংলা এক করে ধরেন , তাহলে বেঙ্গল হতো ব্রিটিশ-ইন্ডিয়ার সব চাইতে ধনী এলাকা (বাংলাদেশের ৪ ৭ ০ + পশ্চিম বঙ্গের ২ ০ ০ বিলিয়ন মহারাষ্ট্রের ৫ ০ ০ বিলিয়ন জিডিপি ছাড়িয়ে যেতো ) ।
ইন্ডিয়া বাংলাদেশে প্রতি বছর সরকারি হিসেবে ১২ - ১৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য বিক্রি করে। অবৈধ ব্যবসা হিসেবে ধরলে এই সংখ্যাটি আরো অনেক বেশি হবে।
ভারতের পূর্ব কোনের রাজ্য গুলোতে বাংলাদেশের মানুষকে এবং বাজারকে ঘিরে বেশ বড় একটা অর্থনীতি দাঁড়িয়ে আছে। নিত্য ব্যবহার্য পণ্য রপ্তানি , হোটেল , চিকিৎসা , লজিস্টিকস , ওষুধ , ড্রাগস, ট্যুরিজম , থেকে শুরু করে চাল , ডাল , পিয়াজ ইত্যাদি তৈরী হয় বাংলাদেশ বিক্রির জন্যে।
খারাপ লাগছে দেখতে যে একাধিক ভিডিও এসেছে কলকাতার গরু ব্যাবসায়ী মহিলা, বৃদ্ধা কান্না কাটি করছেন , আকুতি মিনতি করছেন তাদের গরু গুলো বিক্রি করার পারমিশন চেয়ে । ধর্মান্ধ গান্ডু শুভেন্দু ১৪ বছরের নিচের গোমাতা জবাই নিষিদ্ধ করেছে পশ্চিম বঙ্গে।
এক জন কপালে সিঁদুর দেওয়া মা দেখলাম তার ছেলের কথা বলে কাঁদছেন , কারণ তার ছেলে ঋণে জড়জড়িত, ব্যাংকের থেকে টাকা এনে গরু পুষে কোরবানির সময় বিক্রি করে তার সংসার চলে।
বাংলাদেশের মিডিয়া এখনো এই ব্যাপার গুলো সেভাবে হাই লাইট করছে না।
ভারতীয় মিডিয়া এবং ভারতের টোকাই ফেসবুক কমেন্টেটররা তো সব সময় এমন ভাবে কথা বলেন যে বাংলাদেশ বোধ হয় ভারতের কাছ থেকে বিনামূল্যে জিনিস এনে এনে খায়।
অথচ বাংলাদেশ ভারত থেকে এমন কিছুই আনে না যা অন্য খান থেকে আনা যায় না।
ভারতের অধিকাংশ রাজ্য বাংলাদেশিদের জন্যে সস্তা বা চিপ মনে হয়। একারণে অনেক দরিদ্র বাংলাদেশিরা ভারতে চিকিৎসা কিংবা কেনা কাটা করতে যায় সস্তায় জিনিস কেনার জন্যে।
ভারতীয়রা অনেক সময় বাংলাদেশের ক্ষেত্রে কোন একটা কারণে ভুলে যায় যে ক্রেতার সম্মান ভগবানের সম্মানের সমান --- অন্তত ফ্রি মার্কেট অর্থনীতিতে।
আর কেউ না বুঝলেও, ভারতের গরু ব্যাবসায়ীরা এই নিদারুন বাস্তবতা এখন বুঝতে পারছে গোমাতা বিক্রির সুযোগ হারিয়ে।
তার মূল ফেসবুক পোস্টটি দেখুন এখানে ।




