সংবাদ বিজ্ঞপ্তিঃ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে দোয়া মাহফিলের মধ্য দিয়ে কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহর ৭৮তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হয়েছে।
এ সময় বক্তারা বলেন, জিন্নাহ যদি পাকিস্তান গড়তে না পারতেন, তাহলে উপমহাদেশে কোনো স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র হতো না এবং পরবর্তীতে সেই রাষ্ট্র থেকে আরেকটি মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো না। তাই স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার অসামান্য কীর্তির জন্য আমাদের জাতি তাঁর নিঃস্বার্থ সংগ্রামের কাছে চিরঋণী।
শুক্রবার বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে এ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ।
এতে উপস্থিত ছিলেন ডেল্টা লাইফ ইনস্যুরেন্সের সাবেক চেয়ারম্যান সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসাইন, জাতীয়তাবাদী গবেষণা কেন্দ্রের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার এ কে এম রেজাউল ইসলাম, জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসান, যুগ্ম-আহ্বায়ক সাইয়েদ কুতুব, সদস্য সচিব ডা. নাবিল আহমদ, সদস্য সাইদুল ইসলাম, বিপ্লবী ছাত্র পরিষদের আহ্বায়ক আবদুল ওয়াহেদ, সমন্বয়ক মো. আরিফুল ইসলাম ও জুলাই যোদ্ধা মাওলানা শফিকুর রহমান প্রমুখ।
দোয়া মাহফিলে খোমেনী ইহসান বলেন, কায়েদে আজম মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ছিলেন মহান মুসলিম জাতীয়তাবাদী নেতা। তাঁর নেতৃত্বে আমাদের বাপ-দাদারা ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন। আমরা জিন্নাহকে স্মরণ করার মধ্য দিয়ে আমাদের বাপ-দাদাদের কীর্তিকে স্মরণ করছি।
তিনি আরও বলেন, জিন্নাহ যদি পাকিস্তান গড়তে না পারতেন, তাহলে উপমহাদেশে কোনো স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র হতো না এবং পরবর্তীতে সেই রাষ্ট্র থেকে আরেকটি মুসলিম রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব হতো না। তাই স্বাধীন মুসলিম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার এই অসামান্য কীর্তির জন্য আমাদের জাতি তাঁর নিঃস্বার্থ সংগ্রামের কাছে চিরঋণী।
মুসলমানদের ঐক্যবদ্ধ করতে জিন্নাহর অবদানের কথা স্মরণ করে খোমেনী ইহসান বলেন, জিন্নাহ অসাধ্য সাধন করে মুসলমানদের এক করেছিলেন, যার ফলে হাজার মাইল দূরত্বে বিচ্ছিন্ন বাংলাদেশ ও পাকিস্তান মিলে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হতে পেরেছিল। মুসলমানদের এমন বন্ধন ও ঐক্য ইসলামের ইতিহাসে বিরল।
তিনি বলেন, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে মক্কা চুক্তি স্বাক্ষরের মধ্য দিয়ে মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এগিয়ে যাচ্ছে। আশা করছি বাংলাদেশ মক্কা চুক্তিতে শামিল হবে। তখন জিন্নাহর মুসলিম ঐক্যের দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশে প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠবে।
জিন্নাহর মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় বিপ্লবী পরিষদ গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে তিন দিনব্যাপী “দি আর্কিটেক্ট রিমেম্বার্ড” শীর্ষক স্মরণ উৎসব পালন করে।
এ অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিল জিন্নাহর জীবনীভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সেমিনার ও বিশেষ প্রার্থনা।
শুক্রবার সমাপনী দিনে বাদ জুমা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অবস্থিত জিন্নাহর মুসলিম জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সহযোগী জাতীয় নেতা শেরেবাংলা এ. কে. ফজলুল হক ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মাজার জিয়ারত করেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের নেতৃবৃন্দ। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিল ও আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।



