জামায়াত, এনসিপিকে আন্দোলনে নামার পরামর্শ মির্যা গালিবের!
.. বিএনপির এই আকামের বেলায় দয়া কইরা আপনারাও নিজের দলের বিপক্ষে দাঁড়ান....আপনার নিজের দলের মধ্যের গ্রুপিংয়ের কারণে আপনার দলের অন্য কেউ যখন আইসা আপনার ঘরে আগুন দিবে, ন্যায়বিচার আপনারও লাগবে।..
এক, বিএনপি সরকার স্বতন্ত্র সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত ঘোষণা করল। এর মধ্য দিয়ে বিচার বিভাগ নির্বাহী বিভাগের প্রভাবের বাইরে থেকে স্বাধীনভাবে যে কাজ করবে, সেই সম্ভাবনার মৃত্যু ঘটল। এর আগে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫ বাতিল করেছে। সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্ত ঘোষণা করা তারই ধারাবাহিকতা।
দুই, বিএনপিপন্থী লোকেরা প্রায়ই বলে যে, বিএনপি জুলাই সনদের অনেক জায়গায় নোট অফ ডিসেন্ট দিছে, এই জন্য তারা এইটা মানতে চায় না। কিন্তু যেইখানে তারা যেইটা এগ্রি করেছিল, সেইখানে তারা সেইটা মানবে। আর মানবে তাদের ৩১ দফা। তাইলে আসেন, ৩১ দফায় কী আছে আমরা দেখি। বিএনপির নিজেদের লেখা ৩১ দফার ১০ম দফায় লেখা আছে, “বিচার বিভাগের জন্য সুপ্রিম কোর্টের নিয়ন্ত্রণাধীন একটি পৃথক সচিবালয় থাকিবে।” স্পষ্টভাবে এইটা লেখা আছে। বিএনপির ওয়েবসাইটে এখনও এইটা দেয়া আছে। এর পাশাপাশি বিএনপির নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে বলা আছে, “অধস্তন আদালতের বিচারকদের চাকরির নিয়ন্ত্রণ সম্পূর্ণভাবে সুপ্রিম কোর্টের উপর ন্যস্ত করার জন্য সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন করা হবে।” অথচ, যেই স্বতন্ত্র সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিএনপি বাতিল করল, তার কাজই ছিল নিম্ন আদালতের বিচারকদের পরিচালনাকে নির্বাহী বিভাগ থেকে আলাদা করা। জুলাই সনদে স্বতন্ত্র সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় প্রতিষ্ঠার যে প্রস্তাব ছিল, বিএনপি তাতেও দ্বিমত করে নাই, নোট অফ ডিসেন্ট দেয় নাই।
তিন, জুলাই সনদের যেইখানে বিএনপি নোট অফ ডিসেন্ট দিছে, সেইটা যে তারা মানবে না, তা তো আমরা জানিই। কিন্তু যেইখানে তারা নোট অফ ডিসেন্ট দেয় নাই, যেইটা তার নিজের ৩১ দফায় নিজে লিখছে, নিজের নির্বাচনী মেনিফেস্টোতে যেইটা লেখা আছে, সেইটাও এখন তারা মানতেছে না। জাতির সাথে বেইমানী করার একটা সীমা তো থাকা দরকার।
চার, যে সমস্ত ভাইবোনেরা বিএনপিরে ভালবাসেন, পছন্দ করেন; বিএনপির এই আকামের বেলায় দয়া কইরা আপনারাও নিজের দলের বিপক্ষে দাঁড়ান, সমালোচনা করেন। আপনার নিজের দলের মধ্যের গ্রুপিংয়ের কারণে আপনার দলের অন্য কেউ যখন আইসা আপনার ঘরে আগুন দিবে, তখন কিন্তু
ন্যায়বিচার আপনারও লাগবে। রাষ্ট্রের যে সংস্কারের মধ্য দিয়ে ন্যায়বিচার নিশ্চিত হইব, সেইটারে ইগনোর করলে একদিন আপনার ঘাড়ের উপর আইসাই অবিচার ভর করব, এই ব্যাপারে নিশ্চিত থাকেন।
পাঁচ, জামায়াত আর এনসিপি, বিচার বিভাগের স্বাধীনতার ইস্যুতে খালি নিন্দা জানাইয়া বইসা থাইকেন না। প্রয়োজনে আন্দোলনে নামেন। এইটা নন-নেগোশিয়েবল। যেই দেশে আদালতে গেলে সরকারের জুলুমের প্রতিকার পাওয়া যাবে না, যেই দেশের প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের মত খালি দলদাস হইয়া থাকব, সেইটা কোন দেশই না। আগে দেশ ঠিক করেন, তারপরে রাজনীতি কইরেন।
(মির্যা গালিবের ফেসবুক পোস্ট থেকে )



