যে দলই বাংলাদেশে রাজনীতি করবে, তাদেরকে ১৬ ডিসেম্বরে জাতীয় স্মৃতিসৌধ এবং আগস্টের ৫ তারিখ জুলাই যাদুঘরে শ্রদ্ধা নিবেদন করেই করতে হবে —এমন অভিমত ব্যক্ত করেছেন সাবেক সংস্কৃতি বিষয়ক উপদেষ্টা ও নির্মাতা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী।
তিনি ৫ আগস্ট জুলাই যাদুঘরের মেমোরিয়ালে পুষ্পস্তবক অর্পণকে রাষ্ট্রীয় আচারের অংশ করার প্রস্তাব করেছেন এবং রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলের নেতৃবৃন্দের অংশগ্রহণে দিনটির সূচনা করা হবে এমন প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন তার ২৩ আগস্টের ফেসবুক পোস্টে।
ফারুকী তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেন, জুলাই যাদুঘরের মেমোরিয়ালটি শুধু জুলাই গণঅভ্যুত্থান না, বরং পিলখানা হত্যাকান্ড, শাপলা চত্বরের হত্যাকান্ড এবং গত ১৬ বছরের গুম-খুনের শিকারদের স্মরণে নির্মিত। তিনি জানান, মেমোরিয়ালের চারপাশে প্রায় ৪ হাজার ২০০ শহীদের নাম উৎকীর্ণ রয়েছে।
যারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ভূমিকা রেখেছেন এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে প্রাণ দিয়েছেন, তাদের নিয়মিত স্মরণ রাষ্ট্রাচারের অংশ হওয়া উচিত - এমনটা মনে করেন ফারুকী। তাঁর মতে, ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে এ ধরনের রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা সেই স্মরণকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে পারে।
ফারুকী জানান, মেমোরিয়ালটি নির্মাণের সময়ই ৫ আগস্ট সেখানে পুষ্পস্তবক অর্পণের পরিকল্পনা ছিল। তবে উদ্বোধনের সময় সেই ধারণা বাস্তবায়িত হয়নি বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, মেমোরিয়ালকে কেন্দ্র করে অনুষ্ঠানটি সরাসরি শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের মাধ্যমে শুরু করা যেত।
শুধু ৫ আগস্ট নয়, বছরের অন্যান্য সময়ও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা সেখানে শ্রদ্ধা জানাতে পারেন বলে প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি। নতুন মন্ত্রী বা অন্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা জাতীয় স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি জুলাই শহীদদের মেমোরিয়ালেও পুষ্পস্তবক অর্পণ করতে পারেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এদিকে একই প্রসঙ্গে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পক্ষে সক্রিয় কণ্ঠ হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদ ইশরাকও রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে জুলাই শহীদদের স্মরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেন, “রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা প্রমুখ সাভারে যান। ফুল দেন। শ্রদ্ধা জানান। কিন্তু তারা কেউ জুলাই মিনারে যান না।”
ইশরাক আরও বলেন, “যে শহীদরা তাদের রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, বিরোধী দলীয় নেতা বানালো তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোটা এখনও রাষ্ট্রাচারের অংশ হতে পারে নাই আর কি।”
ফারুকীর পোস্টে বিএনপির ‘টেক ব্যাক বাংলাদেশ’ স্লোগানের প্রসঙ্গও উঠে এসেছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, বাংলাদেশকে কার হাত থেকে ‘টেক ব্যাক’ করার কথা বলা হয়েছিল এবং কেন দেশের মানুষ ওই স্লোগানের রাজনৈতিক তাৎপর্য বুঝতে পেরেছিল।
ফারুকী দাবি করেন, আগের সময়ে দেশের পররাষ্ট্রনীতিতে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে একজন পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রকাশ্যে অন্য একটি দেশের সরকারকে বাংলাদেশের সরকারকে ক্ষমতায় রাখার অনুরোধ জানানোর কথা বলেছিলেন। এ প্রসঙ্গ টেনে তিনি বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটি সামনে আনেন।
ফারুকীর প্রস্তাব অনুযায়ী, ৫ আগস্টের রাষ্ট্রীয় কর্মসূচির পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন শহরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভে স্থানীয় প্রশাসনের পুষ্পস্তবক অর্পণের বর্তমান প্রথাও অব্যাহত রাখা যেতে পারে। একই সঙ্গে এসব স্মৃতিস্তম্ভের চারপাশে যথাযথ ল্যান্ডস্কেপিং করে স্থানগুলোকে আরও সুন্দর ও সংরক্ষণযোগ্য রাখার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
দুই বক্তব্যেই মূলত জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের রাষ্ট্রীয়ভাবে স্মরণ এবং তাদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনকে আরও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দাবি উঠে এসেছে। ফারুকী যেখানে ৫ আগস্টকে কেন্দ্র করে রাষ্ট্রীয় আচারের প্রস্তাব দিয়েছেন, সেখানে ইশরাক প্রশ্ন তুলেছেন—যে শহীদদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এখনও কেন রাষ্ট্রীয় আচারের নিয়মিত অংশ হয়নি।


