ইসরাইলের জন্য কাজের অভিযোগে তুরস্কে আটকঃ মার্কিন- ইসরাইলী চাপে মুক্ত ।
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের ভাষায় “গোপন অভিযানে” ফেব্রুয়ারিতে আটক হওয়ার পর তুরস্ক ত্যাগ করেন জেসিকা বাখার নামের এই নারী।
ডেস্ক রিপোর্ট | সূত্রঃ মিডেল ইস্ট আই |
ইসরায়েলি গণমাধ্যমের ভাষায় “গোপন অভিযানে” ফেব্রুয়ারিতে আটক হওয়ার পর তুরস্ক ত্যাগ করেন জেসিকা বাখার
তুরস্কে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কাজ করার অভিযোগে আটক এক তুর্কি-ইসরায়েলি নাগরিককে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সরকারের হস্তক্ষেপে মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
জেসিকা বাখার, যিনি ১৭ বছর বয়সে ইসরায়েলে অভিবাসন করেন, ফেব্রুয়ারিতে ইস্তাম্বুলে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে পুলিশ কর্তৃক আটক হন।
তুরস্কে প্রো-প্যালেস্টাইন গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কাজ করার অভিযোগে তুর্কি নাগরিকদের চিহ্নিত করার একটি প্রচারণা চালাচ্ছিল, যার লক্ষ্যবস্তু ছিলেন বাখার।
ইসরায়েলের সংবাদমাধ্যম N12 জানায়, “বিদেশি সেনাবাহিনীতে কাজ করার” অভিযোগে তার গ্রেপ্তারের খবর জানার পর দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিদিয়ন সা’র যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপসহ ব্যাপক চাপ প্রয়োগ করেন। পরে তাকে একটি “গোপন অভিযানে” মুক্ত করে ইসরায়েলে নিয়ে যাওয়া হয়।
ডিক্লাসিফায়েড ইউকে নামের একটি গণমাধ্যমের তথ্য অধিকার আইনের মাধ্যমে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে ১১২ জন তুর্কি-ইসরায়েলি নাগরিক ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে কর্মরত।
তুরস্কে সব পুরুষ নাগরিকের জন্য এবং ইসরায়েলে নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক। তুরস্কের দণ্ডবিধির ৩২০ নম্বর ধারায় সরকারের অনুমতি ছাড়া বিদেশি সেনাবাহিনীতে কাজ করলে এক থেকে তিন বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
বাখারের ঘটনাটি প্রথম সামনে আনে “ফ্রিডম ওয়াচ প্ল্যাটফর্ম” নামের একটি কর্মী সংগঠন। তারা অভিযোগ করে, গাজায় ইসরায়েলের গণহত্যায় বাখারের সম্পৃক্ততা রয়েছে এবং তার সামরিক পোশাক পরা ছবি প্রকাশ করে।
তার ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত ছবিগুলো পরে মুছে ফেলা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
সংগঠনটি ১৬ ফেব্রুয়ারি লিখেছিল, “আমরা আমাদের দেশে গণহত্যায় জড়িত এই দুষ্কৃতকারীদের চাই না। আমরা প্রত্যেককে আইনের আওতায় আনব এবং সর্বত্র তাদের উন্মোচিত করব।” তারা তুরস্কের দণ্ডবিধির ৭৬ নম্বর ধারায় (গণহত্যার অপরাধ) তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির দাবি জানায়।
তুরস্ক ১৯৪৯ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম মুসলিম-সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ। আধুনিক ইতিহাসে দুই দেশের মধ্যে নিরাপত্তা ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক দীর্ঘ সময় ধরে ভালো ছিল।
তবে ২০১০ সালে গাজায় ত্রাণ নিয়ে যাওয়া তুর্কি জাহাজ মাভি মারমারাতে ইসরায়েলি বাহিনীর হামলায় ১০ জন নিহত হওয়ার পর থেকে সম্পর্কের অবনতি ঘটে এবং ফিলিস্তিনিদের প্রতি ইসরায়েলের আচরণ নিয়ে তুরস্কের সরকার ক্রমেই কঠোর অবস্থান নেয়।
২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার সর্বশেষ উদ্যোগ—যেখানে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রেচেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ান ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো সাক্ষাৎ ও করমর্দন করেন—পরের মাসেই ভেঙে পড়ে। ৭ অক্টোবর হামাসের নেতৃত্বে ইসরায়েলে হামলা এবং গাজায় পরবর্তী যুদ্ধের পর পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়।
এরপর থেকে দুই দেশের রাজনীতিবিদদের বক্তব্যে উত্তেজনা বেড়েছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী নাফতালি বেনেট মার্চ মাসে তুরস্ককে সম্ভাব্য “পরবর্তী ইরান” হিসেবে উল্লেখ করেন।
ইসরায়েলের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যে তুরস্কেই সবচেয়ে বড় ইহুদি জনগোষ্ঠী বসবাস করে। ঐতিহাসিকভাবে সুসম্পর্ক থাকার কারণে পর্যটন, ব্যবসা বা অভিবাসনের উদ্দেশ্যে দুই দেশের নাগরিকদের মধ্যে যাতায়াত তুলনামূলকভাবে সহজ ছিল।
প্রকাশনার সময় পর্যন্ত মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এবং আঙ্কারায় যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের কাছে মন্তব্য চাওয়া হলেও কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।



