'ভয়াবহ পরিণতির' শিকার হবে সৌদি আরব! মার্কিন সিনেটর লিন্ডসি গ্রামের হুঁশিয়ারি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গ্রাহাম দাবি করেন।
ডেস্ক রিপোর্টঃ মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগে নতুন করে চাপ সৃষ্টি করেছেন মার্কিন রিপাবলিকান সিনেটর Lindsey Graham। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, সৌদি আরবসহ আঞ্চলিক মিত্র দেশগুলো যদি তথাকথিত “আব্রাহাম অ্যাকর্ডস”-এ যোগ না দেয়, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক “গুরুতর পরিণতির” মুখে পড়তে পারে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে গ্রাহাম দাবি করেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান সমঝোতা আলোচনার অংশ হিসেবে যদি সৌদি আরব, কাতার ও পাকিস্তান ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে সম্মত হয়, তাহলে তা মধ্যপ্রাচ্যের ইতিহাসে “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক চুক্তিগুলোর একটি” হয়ে উঠবে।
তিনি বলেন, সৌদি আরব, কাতার এবং পাকিস্তানের আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগদান “অঞ্চল ও বিশ্বের জন্য আমূল পরিবর্তনকারী” পদক্ষেপ হবে। একই সঙ্গে তিনি এই উদ্যোগকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট Donald Trump-এর “দূরদর্শী কৌশল” বলে উল্লেখ করেন।
গ্রাহাম আরও বলেন, “নতুন মধ্যপ্রাচ্য গঠনের জন্য এখনই সাহসী সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়।” তিনি দাবি করেন, ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী সৌদি আরব শেষ পর্যন্ত আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেবে এবং এর মাধ্যমে আরব-ইসরাইল দ্বন্দ্ব কার্যত শেষ হওয়ার পথ তৈরি হবে।
তবে এই বক্তব্যে স্পষ্ট হুঁশিয়ারিও দেন রিপাবলিকান এই সিনেটর। তিনি বলেন, যদি আঞ্চলিক মিত্ররা ট্রাম্পের প্রস্তাবিত পথে না হাঁটে, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং শান্তি প্রস্তাবটিও অগ্রহণযোগ্য হয়ে উঠবে। তার ভাষায়, এই সুযোগ প্রত্যাখ্যান করলে ইতিহাস সেটিকে “বড় ধরনের ভুল সিদ্ধান্ত” হিসেবে দেখবে।
বিশ্লেষকদের মতে, গ্রাহামের বক্তব্য মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন কৌশলগত চাপের ইঙ্গিত বহন করছে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য সমঝোতার বিনিময়ে আরব রাষ্ট্রগুলোকে ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে আনতে ওয়াশিংটন যে সমন্বিত কূটনৈতিক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে, এই বক্তব্য তা আরও স্পষ্ট করেছে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে ট্রাম্প প্রশাসনের উদ্যোগে সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, মরক্কো ও সুদান ইসরাইলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করতে “আব্রাহাম অ্যাকর্ডস”-এ যোগ দেয়। তবে সৌদি আরব এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে ওই চুক্তিতে অংশ নেয়নি।



