বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের জিরো লাইনে ১০ জন আটকা, জাতিসংঘ ও আইওএমের জরুরি হস্তক্ষেপ চাইলেন এমপি মীর আহমদ বিন কাসেম
জাতিসংঘের বাংলাদেশে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোরে-স্মেরেজনিয়াক এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বাংলাদেশ মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জিউসেপে লোপ্রেতের কাছে এই চিঠি পাঠানো হয়।
ঢাকা, ৭ জুন ২০২৬: বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তের পঞ্চগড় অঞ্চলের জিরো লাইনে নারী ও শিশুসহ ১০ জন ব্যক্তি তিন দিনেরও বেশি সময় ধরে আটকা পড়ে থাকার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন ঢাকা-১৪ আসনের সংসদ সদস্য ও বিরোধীদলীয় নেতার পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম।
রবিবার জাতিসংঘের বাংলাদেশে ভারপ্রাপ্ত আবাসিক সমন্বয়কারী ক্যারল ফ্লোরে-স্মেরেজনিয়াক এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) বাংলাদেশ মিশনের ভারপ্রাপ্ত প্রধান জিউসেপে লোপ্রেতের কাছে পাঠানো এক চিঠিতে তিনি বিষয়টিকে ‘জরুরি মানবিক সংকট’ হিসেবে উল্লেখ করেন এবং অবিলম্বে হস্তক্ষেপের আহ্বান জানান।
চিঠিতে বলা হয়, গণমাধ্যমের প্রতিবেদন এবং নীলফামারীর ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের বক্তব্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার ভোরে ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জনকে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। তবে সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিজিবি) তাদের প্রবেশে বাধা দেয়।
পরবর্তীতে উভয় পক্ষের মধ্যে কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ ওই ব্যক্তিদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানায় বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়। ফলে বর্তমানে কোনো পক্ষই তাদের দায়িত্ব গ্রহণ করেনি। এতে করে ওই ১০ জন ব্যক্তি বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তের মধ্যবর্তী সংকীর্ণ এলাকায় ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছেন।
চিঠিতে আরও বলা হয়, তাদের মধ্যে কয়েকজন শিশু রয়েছে এবং তারা খোলা আকাশের নিচে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবার পর্যাপ্ত সুযোগ ছাড়াই মানবেতর পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। রবিবার আবারও তাদের বাংলাদেশ সীমান্তের দিকে সরিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে সীমান্তে নতুন করে উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
ব্যারিস্টার মীর আহমদ বিন কাসেম বলেন, ওই ব্যক্তিদের নাগরিকত্ব বা আইনি অবস্থান নিয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনা চলতে পারে, তবে সেই প্রক্রিয়ার কারণে তাদের মৌলিক মানবাধিকার ও জীবনরক্ষাকারী সহায়তা থেকে বঞ্চিত করা উচিত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “তাদের চূড়ান্ত পরিচয় বা অবস্থান যাই হোক না কেন, তারা প্রথমত মানুষ—এবং তাদের মধ্যে শিশু রয়েছে। মানবিক সহায়তা প্রদানের বিষয়টি কোনো আইনি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করতে পারে না।”
চিঠিতে জাতিসংঘ ও আইওএমের কাছে চারটি পদক্ষেপ বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়। এগুলো হলো—আটকে পড়া ব্যক্তিদের কাছে অবাধ মানবিক প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা, দ্রুত খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, অস্থায়ী আশ্রয় ও চিকিৎসাসেবা প্রদান, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানদণ্ড অনুযায়ী দীর্ঘমেয়াদি ও মর্যাদাপূর্ণ সমাধানে সহায়তা করা এবং সম্ভব হলে ঘটনাস্থলে স্বাধীন মানবিক পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা গড়ে তোলা।
চিঠিতে তিনি জানান, বিরোধীদলীয় নেতার কার্যালয় এ বিষয়ে যেকোনো গঠনমূলক উদ্যোগে সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে এবং প্রয়োজনে বিষয়টি সংসদসহ অন্যান্য উপযুক্ত ফোরামে উত্থাপন করা হবে।
এ বিষয়ে জাতিসংঘ বা আইওএমের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সীমান্তে আটকে পড়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার প্রশ্নে সংশ্লিষ্ট মহলে উদ্বেগ বাড়ছে।



